রমেশচন্দ্র সেন

এই ৮১৫ পি | পা পপ এপ পি আশপাশ জিপ

প্ুল্লন্বী প্পান্বজ্িম্পার্স বচক্রি্গত্তা

স্পট ঢা কি শী এগ পপ | পীন্পীাগ

দ্বিতীয় অন্করণ-_. তাগ্র্থার়ণ, ১৩৫৪

প্রকাশক £--গিরীন চক্রবর্তী পুহী পাবলিশার্স ১৩, শিবনারায়ণ দাস লেন কলিকাতা মুল্য--811০ মুদ্রাকর :--ফণিভূষণ হাজরা গুগুপ্রেশ

৩৭।৭ বেনিয়াটোলা লেন কলিকাতা

ভারতীয় সাধনার মূর্ত গ্রতীক-_

জীঅরবিন্দের চরণোছেশে

স্পভান্্দী

বিলান দেশ। চারদিকে থৈ থৈ করেজল। বছরে পাচট। মাপ পথ ঘাট, নদী নালা সব একাকার হইয়] যায়। সুর্য কার্তিক মাস হইতে জল শুধষিতে আরম্ভ করে, বিলের জল নদী দিয়! নামিতে থাকে কিন্তু বৈশাখ পর্যস্তও সব জায়গা শুকায় না। মাঠের নীচু জমিওলি অলের তলায়ই থাকে তার উপরই আবার শুরু হয় জ্োষ্টের বর্ষণ। ঘর দরজ্! জলে ডুবিয়া যায়, অনেককেই মাঁচ। বাঁধিয়া থাকিতে হয়। যাতায়াত করিতে হয় নৌকা বা তালের ডোঙা করিয়া

পরগনার মাঝখানে ছোট্র গ্রাম, নাম যঞ্জরী। বর্ষাকালে দিনের বেলায় মঞ্ররীর বাড়ীগুলিকে দ্বীপের মতন দেখায়। বাত্রে আলো জ্বাপিলে মনে হয় ষেন ছোট ছোট এক একট] লাইট হাউস।

লোকে জল হইতে ধাপ-দল তুলিয়া ভিটার উপর জড় করে। সেগুলি শুকাইর়া মাটি হয়। সেই মাটি কিছুট। ধুইয়া যায় মানুষ আবার ধাপ টানিয়া তোলে, চেষ্টা করে ভিট। উচু করিবার প্ররুতির সঙ্গে এমনিভাবে সংগ্রাম করিয়া! সে বাঁচিয়া থাকে জলের তলায় লুকানো ষে প্রাণশক্তি-_বিলের মানুষ তাহাই সংগ্রহ সঞ্চয় করিয়ী তার আবধাস- গৃহ গড়িয়া তোলে। এমন করিয়াই গ্রামের জন্ম হয়, গ্রামের পর গ্রাম মিলির হয় পরগন!।

বাহিরের লোকের কাছে ছোট্ট এই গ্রামখানি পরগনার নামেই পরিচিত। পরগন! নেপালপুরে বহু জাতির বাস, অনেক হিদুং অনেক" যুসলমান। তবে স্থানটাকে ব্রাক্ষণ-প্রধানই বল! চলে। জঅমিরা্ি,

শতাব্দী

বহুধা বিভক্ত হইলে তাঁরাই পরগনার অধিকাংশ জমির মালিক। কিন্তু দেশের সত্যকার গৌরব ব্রাহ্মণজমিদবার নয়, গৌরব ত্রাঙ্মণ-পণ্তিত। কৌলিন্য কাঞ্চনে নয়, পুজা স্তব শান্তর চর্চায়। প্রভাতে তাদের স্তব শাস্ত্র আবুত্তি শ্রবণ করিলে হিন্দুর জ্ঞানচচর অতীত এ্তিহোর কথ মনে পড়ে। ভারতবিখ্যাত বহু খবিকল্প পন্ডিতের স্থৃতিপূত এই দেশে তখনও অনেক মহামহোপাধ্যায় জ্ঞানের বতিক। জালিয়া রাখিয়াছেন, আমরা আজ বলিতেছি সেই যুগের কথা

মঞ্জরীর শান্ত্রচর্চার তেমন কোন গ্রতিহা নাই। বাংলার আর পাঁচট। গ্রামেব মতন এখানেও হিন্দ্মুসলমাঁন সন্ভাবে বাস করে, যখনকার এই আধখ্যায়িক অন্ততঃ তখন করিত। হিন্দুমুসলমাঁন, ব্রাহ্মণ-কায়ন্থ, নমঃশুত্রনাপিত একে অপরকে খুড়।, জ্যাঠা, ভাই, চাচা বলিয়। ডাকিত। ঘন্ব ছিল, কলহও ছিল, যেমন হয় ভাইয়ে ভাইয়ে কিন্তু অন্তরের পুপ্লীভূত মালিন্ত আকাশ বাতাসকে বিষাইয়৷ তুলিত না। শরতের মেঘের মতন ক্ষণ-বর্ষণান্তে দেখা যাইত স্বচ্ছ নীল নির্মল আকাশ বাংল ছিল হিন্দুসুসলমানেব আদরের মাতৃভূমি বাংলাকে কেহ বিমাতা বলিয়া ভাবিত না। বিভিন্ন স্বার্থ তখনও এমন করিয়া দেখা দেয় নাই। কেহ একপক্ষকে অপরপক্ষের গল! টিপিয়৷ মারিবার জন্ত উন্কাইয়া দিত না।

মঞ্জরীর হাটের কিছু নীচে পশ্চিম বাহিনী খালটি দক্ষিণে বাকিয়া গিয়াছে, তারই পুব পারে গ্রামের নমঃশুদ্রদের মাতববর অগ্নি মণ্ডলের বাড়ী। বাড়ীর নীচে খালের পারে এক সারি ক্ৃষ্চুড়ার গাছ। থোকায় থোকায় লাল ফুল, তার উপর বৈকালী সুর্ধের আলো পড়ার রক্তবর্ণের সে কী অপুর্ব সমারোহ। লাল চেলির ভিতর হইতে গোরী নববধূর মতন ফুলের আড়ালে মণ্ডলের ঘরের চকচকে সাদা টিন উকি মারে।

শতার্দী

এই ঘরের বারান্দায় পঞ্চায়ে বসিয়াছে। সেখানে উঠানে কতকগুলি হোগলার চাটাই পাতা'। বারান্দার মাঝখানে অগ্নি মণ্ডল, তাঁর ছু'পাশে জজের জুরির মতন কয়েকজন মাতব্বর। বারান্দায় উঠানের ছায়ায় স্বজাতীয়দের অনেকেই উপস্থিত

পঞ্চায়েতের আসবাব সামান্ত--গুটিকয়েক তুষের তাওয়া, গোল করিয়া পাঁকানো। নারিকেলের ছোব্ড়ী, গন্ধকেব কাঠি এবং দা-কাটা তামাক। অগ্নি মণ্ডল নমঃশুদ্রদের মধ্যে সবচেয়ে বিভ্তশালী। ধানের গোলায় প্রটঢুর ধান, পুকুরে মাছ বাগানে ফল, ন্মেতে ফসল, এক কথায় ভাগ্যলক্ষ্মী যেন তাঁর ঘরে আসির1 বাস] বাধিয়াছেন। লোকটি স্যায়পরায়ণ ধর্মভীরু বলিয়। ব্রাহ্মণ, বৈগ্ঠ, হিন্দু মুসলমান-_সবাই তাঁকে ভালবাসে, শ্রদ্ধা করে। তাঁর গৃহপ্রাঙ্গণই স্বজাতীরদের থানা আদালত বিপদে আপর্দে অন্ত লোকেরাও তার নিকট ছুটিয়া আসে, সম্পদে পরামশ নেয়। অনেক সময় সালিশ মান্ত করে।

কয়েকটি ব্যাপারের মীমাংসার পর নগরবাসী বাডৈর বিচার আরম্ত হইল। শ্লী-পুত্রপরিবার ত্যাগ করিয়া নগর এক বিধবাকে লইয়। তারাইলে ঘর বাধিয়াছে। তারাইলের বিলে তার বাবা সাগরবাসীর পঁচিশ বিঘার উপর জমি। নগর সেই সব জমি নিজে ভোগকরে, পিতাকে জমির কাছে যাইতে দেয় না। গেলে গোলমাল করে, গালাগালি দেয়, লাঠি উ্চাইয়া ভয় দেখায়

এক অময় এই বাড়ে পরিবারই বিশেষ প্রতিপত্তিশালী ছিল। সাগরের পিত নদীয়াবাসী ছিলেন গাঁয়ের মাতববর। ধানে চালে, গরু-বাছুরে, হালে-লাঙ্গলে, বাড় বাড়ন্ত সংসার। লোকে খাতির করিত). নপীয়াবাসীর পর সাগরকেও মাঝে মাঝে সালিসিতে ডাকিত।

আজ নগরবাসীর অন্ত সংসার হতশ্রী। আশিঙ্লাছে দারিদ্র্য 'পমান, কলহ অশাস্তি। সাগরকে পঞ্চায়েতের সামনে ধাড়াইতে

& এরা

ইইক্সাছে। লজ্জায় ক্ষোভে তিনি মাথ। নীচু করিয়া বসিয়া আছেন।; তীবিতেছেন নিজেধ ছুর্ভাগ্যের কথা

বযস্ক পুত্র কোথায় তাহাকে সাহাধ্য কৰিবে, তার বদল সে আঞ্জ- তকে স্তাধ্য অন্ন হইতে বঞ্চিত করে। শুধু তাহাই নয়, তার অন্ত লাঁগববাসীকে আজ পাঁচ জনের সামনে মাথা নীচু করিয়া থাকিতে হয়।

নগরের মাতার মৃত্যুর পর সাগরবাসী আবার বিবাহ করেন। পেই হইতেই নগরবাসী বিগড়াইয়| যায়। বয়স তখন তার ষোল কি লতর। সাগর কহিলেন, বিচার করখুন মণ্ডল খুড়া আর মাতব্বর শায়বা, আমারে জমিতে যাইতে দেয় না। ছাঁওয়াল হৈয়া অপমানী করে।

অগ্নি মণ্ডল বলিলেন, কি কও, নগর ?

নগর বপিল, হ্যা, জমি আমিই ভোগ করি।

অগ্পি মণ্ডল জিজ্ঞাসা করিলেন, বাপকে জমির ধারে যাইতে দেও না ফরেন?

নগরবাসী কহিল, জমির অধেকি আমায় ভাগ করে দিন। বাকি অধেক ওরা চষুন গিয়ে |

সাগর কহিলেন, আধা তোর কিসের রে? তোর শ্বশুর কি তোরে লেইখ্য। দিছে?

অশাস্তরী কথা বল না। সে আমায় দ্বেবে কেন? সে হ'ল ভোমার মিতে। দিলে তোমায় দিয়েছে

অগ্রি মণ্ডল বলিলেন, দেখ নগর, বাপ থাকতে ছাওয়ালে জমির মালিক হইতে পারে না।

নগরবাসী বলিল, আমিও অকুল পাঁথার থেকে ভেসে আসি নি।

অগ্নি মণ্ডগ কহিলেন, তা নয় কিন্তু মহারাণীর আইন এই।'

মমাঞ্জ শাস্তরেও & কথাই কয়

শতাব্দী রর

নগর বলিল, তা কেন? আমার পিতার ছুই পরিবার; বিষয়ের এক ভাগ আমার মার আর এক ভাগ এই কৈকেরী মাতার। আপনারা সেই হিসেবে ভাগ ক'রে দিন

তাকে কে যেন বুঝাইয়াছিল বে, স্ত্রীর সংখ্যা অনুপাতে হিন্দুর সম্পত্তি বিভাগ হয়। সে সেইটাকে আকড়াইয়৷ ধরিল।

অনেক কথ! কাটাকাটির পর ভাগ্য বাড়ৈ বলিল, যখন পিতার লগে থাকতে চায় না, আপনারা অরে অঠি ভাগ করিয়া দিখুন। সাগর ভাইর চার ছাওরাল, চার ভাগের এক ভাগ তো পাবেই।

সর্বন্ব হইতে বঞ্চিত বুদ্ধ সাগরবাসী এর চেয়ে বেশী দিয়াও মিটমাট করিতে সম্মত ছিলেন। এই সময় মণ্ডলের ঘরের ভিতর হইতে মাতব্বররা শুনিতে পান এইভাবে নগরের বিমাতা কুগ্তস্থী কহিল, আমার ছাওপোনারাও তো! খড়কুটার মতন বিলের জলে ভাপিয়া আসে নাই। আপনার! মোড়ল, আপনার পেরধান। আমার ছাওয়ালেরা যাতে বাঁচিয়া থাকতে পারে তা আপনারগে! করতেই হবে

নগরবাসী বলিল, বেশ মঞ্জরীর জমির ভাগ আমি ছেডে দিচ্ছি। আমাকে তারাইলের জমির অধেক দিন।

কুপ্জসথী কহিল, গ্রামের জমি মাত্র চার কুড়া, ভিটা বাড়ী আধ কুড়।। এই সাড়ে চার বিঘার অধেকের বদল তারাইলের ত্রিশ কুড়ার অধেক পাইতে পারে না। গ্রামের জমি নীরস আর তারাইলের গাঙের ধারের উঠ.তি জমি মাটি না যেন মা লক্্মী।

বাদ-প্রতিবাদের উপসংহারে অগ্নি মণ্ডল কহিলেন, কাল একগ্রয়য় উদ্ধানে আমরা তারাইলে বাইয়া জমি ভাগ করিয়া দেব। নগ্নর, এক সিকি পাবা তুমি। যদিও বাপ থাকতে তা হওয়া উচিত না কিন্ত মগ্ডলরী বখন কইছেন আর তোমার বাবারও সেই মত তখন €গাঁলমাল মিটানোই ভাল।

শতাব্দী

নগরবাসী ইহাতে খুশি হইতে পারিল না। কিন্ত সে জানিত, আপত্তি করা নিরর৫থক। সাগরবাসী বলিলেন, আর একটা কথারও. ফয়সালার দরকার

কথাটা টগর সংক্রান্ত খুলিয়া! বলিতে তার বাধ বাধ ঠেকিতেছিল, বার ছুই ঢেোক গিলিয়! শেষটায় বলিলেন, আমি কইতেছিলাম এই ছধিভূষণের মাইয়ার কথা, টগরের-_

ব্যাপারটা জানিত সকলেই অনেকেই এবার মুখ চাঁওয়া-চাউয়ি করিতে লাগিল

এই সময় উন্নতবপু, সুশ্রী এক যুবা আসর ত্যাগ করিবার জন্য উঠিয়' ্বাড়াইল। অগ্নি মণ্ডল বলিলেন, কি রাজেশ্বর, তুমি তো আরও একদিন আইছিলা। কোন কথ! ছিল না! কি?

রাজেশ্বর বলিল আজ্ঞে ছিল। সে অন্ত সময় হবে-_বলিয়াই পঞ্চায়েতের উদ্দেশে নমস্কার করিয়া চলিয়া গেল। সকলেই ব্যাপারটা লক্ষ্য করিলেন। অপরের গ্লীনিকর আলোচনার সময় রাঁজেশ্বর উপস্থিত থাকিতে চায় না। অগ্নি মণ্ডল বলিলেন, আলোক মল্লিকের ছাওয়ালটি বড় খাসা। লোচন মধু কহিলেন, ছাওযাল না ষেন চকমকির ঝিলিক্‌।

সাগরবাসী আবার পুত্রের প্রসঙ্গ তুলিলেন, বউডি কী কেলেশই না পার। কী ক্রন্দনডাই না করে, যদি তা” গ্যাখতেন মণ্ডল মশায়রা, দুইটা ছাওপোন। হইছে, নগর তারগে। দিগেও ষর্ধি চাইতো

নগরবাসী বলিল, নিষেধ করিনি তখন, যে মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ে দিও না? কৈকেয়ী রানীর যুক্তিতে তোমার রামচন্দররে নিজ হাতে তুমি বনে পাঠাইছ।

সকলেই এবার হাসিয়া! উঠিল

নগরবাসী বলিল, আপনারা হ্বান্ত করেন কেন? বিমাতার বিষের, জাল! কি এর মধ্যে কেউ টের পান নাই?

শতাব্দী

বিমাতা এই সময় আড়াল হইতে বলিয়া উঠিলেন, আরে আমার সোনার রামচন্দররে ! তোর বউ বেডারে তুই পুষবি না তো৷ পোষবে কেডা?

নগরবাসী বলিল, তুমি এই বউ এনেছিলে শুধু আমায় কষ্ট দেওয়ার জন্য |

তাদের মমাজে পণ দিয়া কনে আনিতে হয়। মেয়ের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পণ বাড়ে। তখন মেয়েদের বিবাহ হইত পাঁচ, সাত বৎসর বয়সে অনেকেই গরিব, টাকার দরকার, তাই মেয়ে বড় হওয়] পর্যস্ত কেহ দেরি করিতে পারে না। বার বৎসর পার হুইয়া . গেলে সমাজেও পাঁচটা কথা! ওঠে

নগরবাসীর স্বভাব বিগড়াইয়। যাওয়ায় সাগরবাসী স্থির করিলেন ছেলের জন্য বয়স্কা স্থন্দরী পাত্রী আনিবেন। একটি মেয়ে তার পছন্দও হুইয়াছিল। মেয়েটি দরিদ্রের, টাক? তারা কিছু বেশী চায়। সাগর- বাসীর তখন টাকা দেওয়ার মতন অবস্থা ছিল, কিন্তু স্ত্রী কুঞ্জসথী আপত্তি করিল, এক ছাওয়ালের জন্তঠ আর সগলডিরে তুমি ভাসাইয় দেবা দেখছি।

আপন্তিকে দু করিবার জন্য ছু*চার ফোটা চোখের জল ফেলিতেও কম্থুর করিল না।

চোখের জলেরই শেষটায় জয় হইল। কুপঞসথীর মনোনীত পাত্রীর সঙ্গে নগরবাসীর বিবাহ হইয়া গেল। পাত্রীটি কালো, ট্যারা, তার উপর ফ্লাত উচু।

নারী সম্বন্ধে নগরবাসী অনভিজ্ঞ ছিল ন। বটে, কিন্তু একান্তই আপনার করিয়া একজনকে পাইল আজ এই প্রথম। যাঁর উপর অধিকার আছে, বাড়ী ফিবিতে দেরি হইলে ঘরে মাটির প্রদীপ জালিয়! ষে

উৎস্থক চিত্তে তার প্রতীক্ষা করিবে, এরূপ একটি নারীর মোহ কিছুদিনের অন্ত তাকে সংবত করিল

শতাকী

তারপর ফুরাইয়া গেল সেই নূতনত্বের মোহ। অধিকারের দাঁবি পুরাতন হইল এবং সেই দাবিই শেষটায় তাহাকে উচ্ছৃঙ্খল করিয়া তৃলিল। তার উপর কারও দাবি আছে জিনিসটা সে লহা করিতে পারিত না। বিশেষ করিয়৷ অসহা ঠেকিত বিমাতার আনা কুৎসিত মেয়েটির দাবি

এই সময় টগরের রূপ-যৌবন, শাঁনিত ফলার মত তীক্ষ বৃদ্ধি নগরকে আকু্ করিল। শ্রী নৃত্যকালীর রূপ তো ছিলই না, মানুষকে ভূঙ্লাইবার ছলাকলাও সে জানিত না। নিতান্ত সাদদাসিপে এই মেয়েটি জানিত ঘর-সংসার করিতে, ভালবাসিতে, নিজেকে বিলাইয়' দিতে অমন যে সংশাশুড়ী কুপ্তসথী, তাকেও সে আপন করিল, পারিল ন। শুপৃ স্বামীকে সে কাদিয়া কাপড়ের খু'ট ভিজাইল, ছেলে ছ'টিকে আরও বেশী করিয়৷ আদর করিল। এদিকে নগরবাসী টগরকে লইয়! তারাইলে বাসা বাধিল।

পঞ্চায়েতের উদ্দেশে সাগরবাসী বলিলেন, আপনারা অন্ততঃ অর ছাওয়ালগে! একটা ব্যবস্থা করখুন

নগরবাসী বলিল, তারাইলের জমি অধেকি আমাকে দাও, আমি ওদের ভার নিচ্ছি।

এই সময় মণ্ডলের বাড়ীর ভিতর হইতে কীাসার পাত্রে মাতব্বরদের অগ্য ফুটি, তরমুজ, গুড়, আব কয়েক গেলাস জল আসিল। অন্ত সম্প্রদায়ের বারা ছিলেন তাদের অন্ত আসিল, আস্ত ফল আর একথান। কাটারি। স্বজাতীয়দের আর পাঁচজনকে কাঠের একট বড় বারকোশে ফল পাকুড় গুড় দেওয়া হইল। ভাগ্য জিজ্ঞাসা করিল, বৰ আপনার ক্ষেতের ফসল বুৰি।

অগ্রি মণ্ডল কহিলেন, আজ্ঞা, হ।

খাবার খাইয়া অল্পবয়স্কের তুষের তাওয়ায় নারিকেলের ছোবদ়-

শতাকী

গুঁজিয়। ফু দিয়া আগুন জালে তামাক সাদিয়া! বুদ্ধদের হাতে দিবার আগে কলিকাটা একটু প্রসাদ করিয়া দেয় টানের চোটে হাতের তালু গরম হইয়া ওঠে, আগুনের শিখা কলিকার ডগায় লক লক করিতে থাকে

জলষোগান্তে অগ্নি মণ্ডল নগরকে কহিলেন, আর এক কথা, মাইয়াডিরে তোমার ছাড়তে হবে।

একটুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়। নগরবাসী বলিল, বেশ ছাঁড়ব,-_-যদ্দি মাতববররাও ছাড়েন। লোকে মহৎকে দেখেই কাজ করে। ষে কটাই মশায়--বরাত্রে ওকে কত মেয়েছেলের ঘরে দেখা যায়

সভাময় একটা কলগুঞ্জন উঠিল। কটাই গর্জন করিয়া উঠিল, কি এত বড় কথা !

নগরবামী কহিল, মেঘের মতন গুরু গুরু গর্জন করলেই সত্যি কথা মিথ্যে হ'য়ে বায় নাঁ। কথা বলতে পারে পরী এক মণ্ডল মশায় বিলের পচ! জল উনি নন। ওর স্বভাব যেন মধূমতীর ধবল পানি

লোচন মধু কহিল, দ্যাখ, গোপনে যে ধা করে তাই নিয়া কোন কথ নাই। মানুষের মনের গহনে কত আগাছা জন্মে-তা উপড়াইয়া ফ্যাল্‌্তে পারে কেডা? তুমি করতেছ সদরে !

নগববাসী বলিল, গর বা! সদর অন্দর কি আছে? কেনাজানে?

কটাই কহিলেন, এই ওঠলাম, আমি যদি এর শান্তি না দেই তা হইলে আমি পরশ্তরামের পুত্র না।

ব্যাপারটার সকলেই মনে মনে খুশি হইয়াছিল। কটাইর বয়স যাটের উপর, বউ-ছেলে, নাতি-নাতনীতে ঘর ভরা, কিন্ত লজ্জা নাই। রোজই রাত্রে সে বাহিরে কাটায় এবং ব্যাপারট1 আনে সকলেই

কটাই কহিলেন, এই ওঠলাষ মণ্ডল মশায়, এখানে আর মান থাকল না।

১০ শতাববী

অগ্নি মগুল তার হাত ধরিয়া বসাইলেন। কটাই কহিলেন, সাগর ভাই, সাবধান করিয়া গ্ভাও তোমার ছাওয়ালরে। কেডা না জানে যে আমার মান্য-মানত্‌ কত? নরাগাতির মণ্ডল বাড়ীতে আমি মাইয়া দিছি, তারা কত ধুধুর মালিক

সকলেই হাসিয়া উঠিল। কটাইর নিঃস্ব কিন্তু বনেদী এই জামাইবংশের বড়াই গ্রামের লোকের একটা উপহাসের বস্ত হই উঠিরাছিল। এই হাসিতে তিনি আরও রাগিয়া গেলেন। বলিলেন, গ্যায় নগরারে চড়াইয়]

নগরবাসী কহিল, মুখ সাঁম্লে কথা বল বুড়ো |

তবে রে--বলিয়া কটাই লাফ দিয়! উঠিতেই সাগরবাসী সামাল সামাল বলিয়া কোঁমরে কাপড় বাঁধিতে লাগিলেন বুকের ছাঁতি উঁচু করিয়! নগর বলিল, তূমি থাম বাবা, আমি এক চড়ে অর-_

মণ্ডল উদয় পক্ষকেই থামাইয়া! দিলেন কটাই বলিলেন, এর একটা প্রতিকার আপনারগো করতে হবে, মণ্ডল মশায়

মণ্ডল মুশকিলে পড়িলেন। সমাজ গোপন পাপের প্রতিকার কোন দ্বিনই করে নাই। ইহার কিনারা করিতে গেলে অবস্থা হয় ঠক বাছিতে গ! উজাড়ের মতন। তবু তিনি নগরকে বলিলেন, ওনারডে তোমার ক্ষম! চাইতে হবে। উনি তোমার বাপের বয়সী, সম্পর্কে মাতুল।

নগর বলিল, বিচার কি শুধু আমারই হবে?

অগ্থি মণ্ডল কহিলেন, ওর বিচার করতে হয়, করবো আমরা

বেশ, আপনি যখন বলছেন__বলিয়! নগর ক্ষমা ভিক্ষার জন্য কটাইর দিকে আগাইয়। গেলে তিনি জল হইয়! গেলেন, কহিলেন, হইছে, হইছে। তোমারগো উপর আমরা কি সত্য সত্যই বাগ করতে পারি?

অগ্নি মণ্ডল বলিলেন, সাগর ভাইপো, আমারগো লগে তুমি কাল তারাইল যাবা

শতাকী ১১

মাতব্বরদের মধ্যে একজনের অস্থবিধা থাকায় দিনটা গিছাইয়া দেওয়া হইল। ভিন্ন জাতীয় ধাহারা উপস্থিত ছিলেন মণ্ডলের অনুরোধে তাহাদের মধ্যে কালী সঙ্জন, ছবব, সেখ, কাল মিয়া ষোগীন্দ্র শীল সালিসির সময় মাঠে উপস্থিত থাকিতে সম্মত হইলেন।

সন্ধ্যাব ঘ্রান ছায়া উঠানে ছড়াইয়া পড়িয়াছে। ওপারের মাঠ হইতে শোন! যায় গৃহীভিমুখী গরু-বাছুরের হাম্বা রব খালের ঘাটে বধূরা গা ধোয়, ছেলেরা সাঁতার কাটে, পানকৌডি নইল-নইল থেলে।

অগ্নি মণ্ডল খালের ঘাটে গ1 ধুইয়া, ছোট একখান! ঘরে যাইয়া সিদ্বেশ্বরী কালীর পটের সামনে বসিয়া মায়ের নাম জপ করিতে আরম্ত করিলেন

ঠাকুর ঘরে তাদের ঢুকিতে নাই, বিগ্রহ স্পর্শ করিতে না, তাই তিনি কলিকাতা হইতে কালীর এই পট আনাইয়াছেন। সকাল সন্ধ্যা ছবির সামনে বসিয়া ডাকেন, মা, মা।

মন নাই, দীক্ষা নাই, মঙ্ে নাই অধিকার, শান্তর স্পর্শ করিতে নাই। এই অবিচার মধ্যে মধ্যে তাঁকে গীডা দেয়, কিন্ত মণ্ডলের দেব-দ্বিজে ভক্তি এত প্রগাঢ় যে শেষটায় মীমাংসার একট পথ খুঁজিয়া বাহির করেন। ভাবেন, যুগ-যুগাস্তের এই বিধানের পিছনে নিশ্চয়ই কোন মঙ্গল লুক্কারিত আছে, যাহ! তাহার ক্ষুত্্ বুদ্ধি অতীত।

অত হিসাব-নিকাশে আমার কাঙ্জ নাই--ভাবিয়া তিনি পুজায় বসিয়া যান। নিজেরই গাছের লাল জবা! কৃষ্ণচূড়া দিয়া মায়ের পা রাঙাইয়! দেন। বলেন, তোর ছবি ছুঁইয়া বদি পাঁপ করিয়া, থাকি, ক্ষমা করিস মা। ছাওয়ালে মায়ের শরীর নোধরা করে, মাঁ তাতেও তো রাগ করে না।

দেবীকে ডাকিতে ডাকিতে তাঁর চোখের পাতা জলে ভিজিয়া;

১২ শতাব্দী

বায়। ভাবাবেশে নিতান্তই বেসুরে। গলায় কখনও কখনও গাহিতে আরম করেন--

“এমন দিন কি হবে মা তারা।”

রাজেশ্বর এক একবার স্থির করে যে, অগ্নি মণ্ডলের নিকট যাইয়া ভার বক্তব্য বেশ গুছাইয়া বলিবে। কোন্টার পর কি বল! দরকার তাহাও ঠিক করিয়া লয়, কিন্তু মণ্ডলের সামনে যাইয়া কেমনই যেন সব গুলাইর! যাঁয়।

অগ্নি মণ্ডল রাগী নন, কাহাকেও একটি কড়া কথা বলেন না, কিন্তু সকলেই তাকে ভয় করে, সমীহ করে। হয়তো কড়া কথ। বলিলে অতট। করিত না।

পূর্বেও কয়েকবার মণ্ডলের বাড়ী পর্য্যন্ত যাইয়া সে ফিরিয়া আসিয়াছে পঞ্চায়েতের সময় সেদিনও বলিয়া আসিল, আর এক সময় আসব।

তার পরও পাঁচ সাত দ্দিন কাটিয়া গেল, রোজই সে দ্বিন পিছাইয়। দেয়। প্রস্তাবটা উত্থাপন করিবার মত সাহস সঞ্চয় করিতে পারে না। রাজেশ্বর যে-কথা বলিবে বলিয়া খ্ির করিয়াছে তাহা নিজে বলা সমাজের রীতি-বিরুদ্ধ, অপরকে দিয়াও উত্থাপন করা চলে না। লোকে হাসিবে, বলিবে, বামনের চাদ ধরিবার শখ

নিজে সে ষে বামন রাজেশ্বর তাহা জানে কিন্ত চাদ ধরার এই 'দুবাকাঙ্খা মন হইতে কিছুতেই ঝাড়িয়া ফেলিতে পারে না। মনে মনে সে এই আশ! পোষণ করে আজ তিন ব্সর। সেদিন শেষটায় প্রতিজ্ঞা করিল, আছ্দ বলবই, ঘ। থাকে কপালে।

শতাব্দী ১৩

সন্ধ্যার কিছু পরে অগ্নি মণ্ডল খাল ধারে কৃষণচুড়ী গাছের নীচে বপিয়াছিলেন। সন্ধ্যার নাম গানের পর প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসিয়। বসেন

খালের ওপারেই বাগণ্ডের মাঠ, মাঠের উত্তর পশ্চিম কোণে ছোট্ট গ্রাম দীঘিরপাড়। দীঘিরপাড়ের বাড়ীগুলির ফাক দিয়া ফেরধরা ঘাঘরের কালো কালো গাছের সারি দেখ! যায়। চাদিনী রাতে মলে হয়, কতকগুলি সবৃক্জ পরী আকঠ জলে াড়াইয়া প্রক্কৃতির শোভা দেখিতেছে।

কী অপূর্ব শোভা! খৈ থৈ করে জল, চাদের প্রেম বুকে করিয়া মুছ বাতাসে জলরাশি ধীরে ধীরে নাচিতে থাকে এই জল শুকাইয়। আপিতেছে বলিয়া মণ্ডলের মাঝে মাঝে বড় ছুঃখ হয়। জমির দাম বাড়িতেছে বটে কিন্তু মণ্ডলের বাল্যকালের সে নেপালপুর আর নাই। পল্মপাতার রাশি রাশি পদ্মে বিল তর! থাকিত। টক্টকে লাল শাপলার ফুল দেখিলে দুর হইতে মনে হইত এক ঝাঁক লাল ভ্রমর পল্লের মধু লোতে কোন্‌ দুর-ুরাত্তর হইতে উড়িয়। আপিয়াছে। নীল কমলের ক্রিগ্ধ রূপে চোখ জুড়াইত। জাল ঝাকিয়া একবার জলের মধ্য হইতে টানিয়া আনিলেই অমন ছু* চার কুড়ি কই, শিডি, মাগুর উঠিঘ। আসিত। আজকাল বছরে পাঁচ ছয় মাস মাঠের মধ্য দিয়া টিয়া ঘাঘর যাওয়া যায়। পথে অবশ্ত জল কাদা অলেক। কিন্ত মণ্ডলের ছেলেবেলায় মাঠ ভাঙ্গিয়া থাঘর যাওয়ার কথ কেহ ভাবিতেও পারিত না

এমনি করিয়াই সব বদলায় তীর এই জীবনে কত বিল উঠিল, কত নী বাকিয়া গেল। মাঝি যেখানে নৌকার পাড়ি দিতে ভর পাইত,_সেধানে আজ তাঁর ছেলে হাল চযে। আবার কত গাঁ, কত হাট বাজার, আকাশ-চৃষ্থী কত বট পাকুড়, তাল গাছ মিলহিয়া। গেল জলের তলায়।

১৪ শতাব্দী

আীবনেও এমন কত পরিবর্তনই না আসে, কত গর ধনী মানুষ কত সন্ত্রান্ত পরিবার এমনই ভাবে ছুর্ভাগ্যের বন্যায় ভাঙ্গিয়া ভাসিয়া যায়, আবার কত হছুঃস্থ, দ্বরিদ্র অভাবের ঘোর আবর্তের মধ্য হইতে নধীর বুকে চরের মত একটু একটু কর্সিরা মাথা তুলির খদ্ধি-শ্রীতে পরিপূর্ণ হয়। জগতের ইতিহাস ইহাই। ইহাই মগুলেব নিজেরও জীবন কথা।

মনে পড়ে, দারিক্র্যের সঙ্গে, বিলেব জলের, সঙ্গে সাপেব সঙ্গে সংগ্রাম কবিয়! বাঁচিয়। থাকার ইতিহাস কিন্তু সমস্ত স্থৃতিকে ছাপাহয়া ওঠে একখান! মুখ, একটি নারী মুতি। কত নাবীইতো দেখিলেন, কিন্তু অমন শান্ত, শ্নিগ্ধ মুখশ্ী আর চোখে পড়িল না। তার এই ষে স্বথ স্বাচ্ছন্দ্য, মান প্রতিপত্তি সকলহ তার স্ত্রী যাদুবালার জন্য তিনি যেন একটা ডাপিতে করিয়া শ্রী মঙ্গল সাজাহয়া আনিিয়া- ছিলেন। আসিয়া লক্ষ্মীর মতন স্বামীর হাতে তুলিয়া পিয়া কহিলেন, এহ নাও।

এক একজন আছে, ,যারা জীবন পথে এইবপ শাস্তি মঙ্গল, আনন্দ মাধুর্য বহন করিয়াই চলে। তীর স্ত্রী ছিলেন এই ধরনের একজন নারী

আপনার বলিতে অগ্নি মণ্ডলের কিছুই ছিল না। বরিশালের গুয়াটোনে নয়াবাড়ীর সেনের্ের জমিদারি ছিল। সেখান হইতে তাহারা অগ্নি মণ্ডলের পিতা শুকচাদ্৭ মণ্ডলকে মঞ্জরীতে আনেন। তার কিছুকাল পরেই শুকাদের মৃত্যু হয়। আত্মকলহের ফলে গুর়াটোনও সেনেদের হাতছাড়। হইয়া যায় অগ্নি তখন একেবারেই ছেলেমানুষ।

বিদেশ বিভূঁইয়ে আত্মীয় বন্ধুহীন এই বালক নিঃসহায় সেনেদের বাড়ীতেই মানুষ হইতে থাকে এই তুম্বামীরাই একটি গরিবের মেয়ে সঙ্গে অশ্মির বিবাহ দেন। স্বামীর সঙ্গে যাহুবালাও মনিব বাড়ীতে

পতাব্দী ১৫

কাজ করিতে আরম্ভ করিলেন। স্বামীর মাস মাহিনা বার আনার কজায়গায় পাঁচপসিকা হইল। যাছুবালার কোন মাহিনা ছিল না। উঠান ঝাট দেওয়া, বাগান পরিঞ্ধার করা, বাসন মাজা, গোয়াল নিকানে! কাজ ছিল তার নানাবিধ। বিনিময়ে ছু'বেলা ছু” থালা ভাত, আর ডাল তারকারীর নামে পাইতেন গামলা কড়ার তলায় তুক্তাবশিষ্ট যাহ! পড়িয়া থাকিত তাহার সমস্তই অর্থাৎ প্রায় দিনই ও-সবের বড় একটা বালাই থাকিত না। জোলার কাপড়ও বরাদ্দ ছিল বছরে ছু'খানা। মাহিনা1 ছিল না তাই স্বামীর চেয়ে স্বাধীনতাও ছিল কিছু বেশী। সেনের বাড়ীর কারের ফাকে ফাকে যেটুকু অবসর মিলিত সেই সময় তিনি আর পাচ বাড়ীতে ধান ভানিতেন, কারও ঘরের মাটির ভিত বাধিয়। দিতেন, চিড়া কুটিতেন। কেহ ছুই চারিট পয়সা দ্িত। তবে বেশীর ভাগহ মিলিত চালের খুদ্ধ। অস্থি মণ্ডলের বৈভবের শুত্রপাত এহ খুদ্কণার।

জীবন যাত্রার এহ হূর্ঈম পথে তার কোন অভিযোগ ছিল না, আলম্ত ছিল না। মাঝে মাঝে একটু মিষ্টি হাসিতেন। হাসিয়া! স্বামীকে উত্সাহ যোগাইতেন। রূপেরও তার খ্যাতি ছিল। লোকে বলিত, শুকচাদদের ছাওয়াডা হৈল বৌ-কপাপিয়।।

ছেলের! মায়ের রূপ কিছু কিছু পাহয়াছে বটে, গুণ কেহই পায় নাই। তার রূপ গুণের অধিকারিণী হইয়াছে শুধু তাদের ছোট সন্তান, একমাত্র মেয়ে চাপা সে হুবহু মায়েরই মতন, রং না যেন কাঠালী ঠাপা, রূপ না যেন পন্নফুলট, হাসে ঠিক মায়ের মতন। তার নিবিড় কালো চোখের তারকায় ষেন বিজ্ঞলী হানে। বয়স পনর যোল কিন্ত তার চেয়ে একটু বড় দেখায়। দেহ-মন বসস্ত সন্তারে দিন দিন যতই পুষ্পিত হইয়া উঠে, গতিভঙ্গী ততই মন্দালস হয়। প্রায়ই সম্বন্ধ আসে, ঘর বর সবই ভাল। সুন্বরী মেয়ে, পিতা অবস্থাঁপন্ন,

১৬ শতাব্দী

অনেকেই তাই আগ্রহ করিনা নিতে চায়। কিন্কু অ্বন্ধ আসিলেই বৃদ্ধ বিপন্বের একট। অন্ুহাত বাহির করেন। ছেলেরা তাগিদ দিলে বলেন, একট] ত' মাইক্পা, থাউক আর কিছুদিন ঘরে।

গ্রামে উপযুক্ত পাত্র নাই, মেয়েকেও দুর দেশে পাঠাইতে ইচ্ছা হয় না। চাপা চপিরা গেলে কে তাঁকে দেখিবে? বধূদের স্বামী পুত্র আছে, কাজও অনেক বাশি রাশি ধান ভানা, ধান শুকাইয়া গোলায় রাখা, চাল চি'ড়া কোটা, কাঠ শুকানো, গো-সেবা। প্রায়ই অতিরিক্ত ক্কষাণ খাটে, ভোরে তাদের বাড়ীর সকসের পান্ত ভাত যোগাইতে হয়, ছুপুরে মাঠে ভাত পাঠাইতে হয়, বৈকাল না পড়িতেই আবার রান্নার যোগাড়

বধুরা চারটিতে সমান খাটিতেও পারে না। বড়টি কর্মপটু বটে কিন্তু বছর না থুর্িতেই তার কোলে একটি করিয়া সন্তান আসে। মেজ ছোট রোগা সেজটি কাজে চট্পটে বটে কিন্ত তার কগস্বরের ভয়েই সকলে অস্থির। গ্রামেই তার বাপের বাড়ী, সপ্তাহে তিন চার দিন নান! ছু'তা করিয়া বাঁপের বাড়ী চলিয়! যায়। তাই চাপার দরকার। চাঁরিটি বধূতে মিপিয়াও তার মত কাজ করিতে পারে না।

অথচ কন্ঠা-সন্তান, পরের ঘরে তাহাকে পাঠাইতেই হইবে। ন। পাঠাইলে পিতার অসন্মান। অগ্নি মণ্ডল ভিন্ন আর কাহারও ঘরে মেয়ে এত বড় হইলে পীচটা কথা উঠিত। তাদের নামেও হয়ত ওঠে, কে জানে ?

বৃদ্ধ এই সব ভাবিতে ভাবিতে মুখ তুলিয়া দেখেন, স।মনে দাড়া ইয়া, রাজেশ্বর তিনি বলিলেন, কে রাজু না?

আজ্কেে হ্যা।

লমাচার় কি?

শতাব্দী ১৭

রাজেশ্বর চুপ করিয়া! ঈবাড়াইয়া রহিল। অগ্নি মগুল বলিলেন, সেদিন কইছিল!, কি ষেন কবা। কও দেখি বার্তাডা।

রাজেখর ইতস্ততঃ করিতে করিতে বলিল, আজ্ঞে, আপনার মেয়ে টাপা, টাপার কথা

কি কথা টাপার ?-_মগ্ডলের কণম্বরে একটু ব্যগ্রতা প্রকাশ পাইল।

আজ্ঞে, আমি ওকে বিয়ে করতে চাই। যদি ওকে দেন--বক্তব্যটা শেষ করিয়া বরাজেশ্বরের বুক যেন হাল্ক! হুইল কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই ভাবিল, কি হান্তকর প্রস্তাব। কোথায় অগ্নি মণ্ডল, চার ভিতে ধার চার্খানা টিনের ঘর, দশ বার্টা হালের গরু, গাই পীচ' সাতটা, তারাইলে বলতলীতে, পাতিয়ার বিলে--প্রায় একশ বিঘ] ধার চাষের জমি আর কোথায় সে, গরিব বাজেশ্বর মল্লিক, ছু" কুড়ার বেশি যার জমি নাই, একট ভাই পর্যস্ত নাই পিছনে দীড়াইবার।

মণ্ডল প্রায় একদও চুপ করিয়া কি যেন ভাবিতে লাগিলেন। কি থে ভাবিতেছিলেন তিনিই গ্রানেন।

রাজেশ্বরের ভয় হইল। নিজে বলির! সে হয়ত ভুল করিয়াছে। আবার মনে হইল বুদ্ধ হয়ত শুনিতেই পান নাই। অথবা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই ভুলিয়া গিয়াছেন। সে মনে মনে ডাকিল, মা ছুর্ণী, ম1 শীতলা, বাবা সত্যপীর তোমর। মণ্ডলের জিহ্বায় এসে ব'স।

খানিকক্ষণ পরে অগ্নি মণ্ডল কহিলেন, অর কত সম্বন্ধ আইছে জান, আমার চাপার ?

রাজেশ্বর নীরব

মোল্লারচকের গিরি মণ্ডল, বিপিনদহর ঘায়ের ডাক্তার বাবু, কৃত বড় মান্যেই নিতে চাইতেছেন অরে

রাজেশ্বরের কানে গেল ছুইটি শব্ধ, গিরি মণ্ডল আর বিপিনদহের ডাক্তার দুজনেই তাদের সম্প্রদায়ের বিখ্যাত লোক, নাম জানে সবাই।

্‌

১৮ শতাব্দী

একটু পরে অগ্নি মণ্ডল কহিলেন, মাইয়া আমি অত দুরে দেব না। বড় লোকে আমার বিশ্বাসও নাই মান্ষের ধনী-দরিদ্দির হইতে কতক্ষণ? আমি বুঝি হাত আর বরাত--বলিয়াই বুদ্ধ নিজের ডান হাঁত উধেব” তুলিয়া! ধরিলেন,--এই হাত। মা লঙ্গমী যদি বৈমুখ না থাকেন তা হৈলে বাহুর বলই সেরা বল আচ্ছ! তুমি একথা না ঘর করছ ন1?

রাজেশ্বর যেন একটু আশ্বস্ত হইল। সে কহিল, পুরনো! ঘর ছিল, সারিয়েছি।

অগ্নি মণ্ডল হাসিয়া বলিলেন, শালের খু"টি দিছ, নতুন বাতা মাক্তা, খড় কুটা--সবইত তোমার কেনতে হৈছে। প্রাচীন খালি মাটির পোতাড1।

বাজেশ্বর কোন উত্তর করিল না। মগ্ডল হঠাৎ উৎসাহিত হইয়! বলিতে আরম্ত করিলেন, আমি চাই তোমারই মতন একজন, ষে নিজের পায়ে দড়াইতে পারে। তোমার বুকের ছিনায় বল আছে, চেহারাও কাস্তিমান, বয়স বছর বাইশ হবে। এর মধ্যে তুমি ঘর করছ, ছু" কুড়া জমি কেন্ছ।

বুদ্ধের কণস্বর এবার ক্ষীণ হইয়া আসিল। তিনি আপন মনেই যেন বলিতে লাগিলেন, শ্বভাবও তোমার ভাল, তোমার বাবা আলোকও ছিল থাস। মানুষ, আমারগে। কত ছোট অকালে চলিয়! গেল।

রাজেশ্বর উৎসাহের সহিত এতক্ষণ গাছের ছাল খুঁটিতেছিল। বেদনা বোধ হওয়ায় লক্ষ্য করিয়া দেখিল দুইটা আঙ্লের নখের ডগা ছি'ড়িয়। গিয়াছে

মণ্ডল কহিলেন, এক বছরের মধ্যে তুমি আমারে দেড়শ টাকা দেবা। তা হৈলে টাপার লগে তোমার বিবাহ দেব। আর, এক বছর বাড়ীর ধারেও আসবা না! বোঝলা?

রাজেশ্বর বৃদ্ধের পায়ের ধুলা লইয়া কহিল, হ্যা দেড়শ টাকা এনে দ্ধেব। আর, আসবও না এক বছর।

শতাব্দী ১৯

মণ্ডল কহিলেন, এইত চাঁই। আলোক মল্লিকের ছাওয়ালের মতনই কথা। তুমি পুরুষের মতন পুরুষ, নিজে আসিয়া মাইয়া চাইল!।

মণ্ডলের উঠানের উপর দিয়াই পথ। ফিরিবার সময় রাজেশ্বর পশ্চিম দ্বিকের ঘরের দিকে চাহিয়া দেখিল, চাপা মাটির প্রদ্দীপের সামনে বসির ঝিনুকে করিয়া একটি শিশুকে ছুধ খাওয়াইতেছে

কত ভাবেই না সে চাপাকে দেখিল, তার প্রত্যেকটি ভঙ্গীই কী স্বন্দর ! বন্ধু ত্রিগুণাকে রাজেশ্বর বলিয়াছে, চাপা যেন পটে আকা পাশ পুতুলটি। দুর্গা প্রতিমার পাশের লক্ষ্মী সরম্বতীরই মতন চাপা এতদিন রাজেশ্বরের কাছে ছিল একটি দুরের বস্ত। আজ সে তাকে দেখিল নূতন দৃষ্টি দিরা। গাঁয়ের সের! মেয়ে চাঁপা, একদিন তো তাহারই হইবে। ত্র যে বাহু যুগল--ভাবিতেই মে কী আনন্দ! বুক যেন দশ হাত ফুলিয়া ওঠে, বাহুতে জোর পায়, মনে হয় সামনের প্র গাছগুলি সে উপড়াইয়া ফেলিতে পারে।

খালের ওপারে তার বাড়ী, খানিকটা দক্ষিণে মঞ্জরীর খালের বড় সাঁকোটা পার হ্ইয়। যাইতে হয়। এতর্দিন যে সব দেবতাকে ডাক্ষিত, বারা তার প্রার্থনায় সাড়। দিয়াছেন, সে তাদের মন্দিরে মন্দিরে প্রণাম সারিয়া বাড়ী ফিরিবার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম প্রহরের বাক্জ-কুড়াল ডাকিয়া উঠিল। রাজেশ্বর পাথীর উদ্দেশে বলিল, আমার বাসন! পুর্ণ কর্‌ পক্ষীরা্জ, আমি তোমায় ছুধ কলা দ্েব।

বন্ধ ত্রিগুণাকে খবর দেওয়া হুইল না বলিয়া মনট। খচ্খচ করিতে লাগিল। কিন্তু তখন রাত বেশী হইয়াছে কাল ভোরে পীরের দরগায় প্রণাম সারিয়! তার ওখানে যাইবে।

আনন্দের প্রথম আবেগ কাটা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টাকার কথাটা বড় হইয়া উঠিল। তাদের সমাজে মেষ়্ের পণ মাত্র বাহান্ন টাকা, কিন্ত মণ্ডল চাকিলেন দ্রেড়শ*। অন্ত মেয়ের পণ বাহার হইলে চাঁপার

২০ শতাব্দী

অন্ক পাঁচশ টাকা চাওয়াও কিছু অন্ায় নয়। কিন্তু এই দেড়শইত” যোগাড় করা তার পক্ষে অসম্ভব জমির আয়ে জমির খরচা, খাজনা এবং নিজের অন্ন সংস্থান হইয়া একটা আধলাও উদ্বৃত্ত থাকে না। অন্ক আয়ের সময়ই বা কোথায়? মাটির বুকে ফসল ফলাইতেই প্রচুর শ্রম করিতে হয়। পৌষে আমন ধান কাটে, ধান বাড়িয়া শুকাইয়। গোলায় তুলিতেই মাঘ, ফাল্গুন কাটিয়া! যায়, তার উপর আবার দ্ূল-টান]।

বর্ধাকালে মাঠের জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধানের গাছ বাড়িতে থাকে। জলের উপর মাথা তুলিয়াই তাকে বাচিতে হয়। বীচিয়।! থাকার এই প্রয়াসে কোথায়ও গাছগুলি দশ পনর হাত লম্বা হয়। ধান কাটার পর গাছের গোড়ার যে অংশ মাঠে পড়িয়া থাকে তাহা, পরিষ্কার করার নামই দল-টান।।

চৈত্রের মাঝামাঝি একই সঙ্গে আউশ আমনের বীজ বোনে শ্রাবণে হয় আউশ। যাদবের জমি অল্প তাদেরও জমি নিড়াইতে ভাঞ্দের দশ বার দিন কাটে

রাজেশ্বর অক্লান্ত খাটে গ্রামে সেই একমাত্র কৃষক ষে জমিতে রীতিমত সর দেয়। কিন্তু মাটি উর্বরা নয়, তাই ছুই ফসলে মিলিয়া বছরে ত্রিশ পঁয়ত্রিশ মন ধান হয়। আর হয় ঘুঘরাহাটির বিলে পাঁচ সাত টাকার হোগল!।

সব কাজ একা কর! চলে না, লোক চাই। রাজেশ্বরও পীচজনের সাহাধ্য নেয়; বিনিময়ে তাদের কৃষাণ খাটিয়া দেয়। কখনও বা টাক দিয়। কৃষাণ রাখে মানুষট। অসাধারণ পরিশ্রমী চাষের কাজের ফাঁকে ফাকে, ঘরামীগিরি করিক্না, নৌকা বাহিয়া, কঠি কাটিয়াও বছরে বিশ ত্রিশ টাকা রোজগার করে। ঘর করিয়াছে, হাল গরু কিনিয়াছে, সবই টাকায়। ঘর তুলিয়া পাঁচজনের প্রশংসা পাইয়াছে।

শতাব্দী ২১

অমন যে কটাই মহাশয় তিনিও বলেন, ছাওয়াল বটে এক খান রাজুয়া মল্লিক, এর মধ্যে শালের খুটি দিয়া ঘর করছে, চৌকাঠ দিছে সেগুনের, আর করবেই বা না কেন? নেশ! ভাঙ. তো কিছু নাই, যা একটু তামুক। তা না খাইলে কাধ করবেই ব! কিসের দমকে? জোয়ান মানুষ, মধ্যে মধ্যে একটু উরুষণণ হৈতে হবে ত।

সব ছাড়িয়া কেরায়া নৌক! বাহিলে হয়ত দেড়শ টাকা যোগাড় হইতে পারে, কিন্তু তা'তে আজ বাগেরহাট, কাল পিরোজপুর, পরণ্ গৈলা এই ভাবে ঘুরির! থুরিয়া বেড়াইতে হইবে, ইহাতে ঘরবাড়ী রক্ষা করা অসম্ভব। মালিক বেশী দিন অনুপস্থিত থাকিলে লোকে ঘরের বেড়। পর্বপ্ত খুলিয়৷ নেন, জমিত্র আল ভাঙ্গিরা দুই হাত বেশী দখল করে, ধানের থেতের উপর দ্রিষ়্াই পথ পড়িয়া! যায়। নিজের সামান্য একটু সুবিধা, একটু পথসঙ্কোচের জন্য নির্মম ভাবে পরের সোনার ধানগুলিকে দ্বলিয়া, পিষিয়া চলে। বাজেশ্বর ভাবে, মানুষ এত অবুঝ হুর কেমন করিয়া ?

তার মনে পড়ে চালানী কারবারের কথা, লাভ তাতে অনেক। বেশীদিন বিদেশে থাকিতে হয় না। মধ্যে মধ্যে গেলেই চলে।

আর কয়েকর্থিন পরে কাঠালের সমম্ন যশোরের কাঠাল আনিয়া বেচিতে পারিলে লাভ যথেষ্ট তারপর পুজার সময় বরিশাল হইতে নারিকেলের চালান, যদ্দি সম্ভব হয় সঙ্গে স্থপারি। ম্ুপারির কাজে লাভ সবচেয়ে বেশী।

কিন্ত এর জন্য দরকার নগদ টাকার, দরকার একজন মানবের আর একখানা নৌকার এই টাকাটাই সবচেয়ে বড় কথা। রাজেশখর শেষটার স্থির করে, কাল প্রাতে এই সম্বন্ধে সে ত্রিগুণ ভাইর সঙ্গে পরামর্শ করিবে, লেখাপড়া জানা ভদ্দরলোক মানুষ, একটা পথ সে বলির! দিবেই।

২২ শতাব্দী

টাকা মাত্র দেড়শ”, উহা! শেষ পর্যস্ত যোগাড় হইয়া যাইবে। তার টাপার মধ্যে ব্াবধান মাত দেড়শূ* টাকার। মা কালী কি তাহ। দিবেন লা? নিশ্চই দিবেন।

এই আশ বুকে করিয়া বাত্রি তৃতীয় প্রহরে সে ঘুমাইয়! পড়ে।

রাজেশ্বরের খুব ভোরে ওঠার অভ্যাস। রাত্রি তৃতীর প্রহরে শুইলেও অতি প্রত্যুষে কাজী বাড়ীর আঙ্গানের জঙ্গে সঙ্গে তার ঘুম তাঙ্গিয়া গেল। কী মধুর শব্ধ! মৌলবী ইসলামের ভক্তদের আহ্বান করিতেছেন, পবিত্র হজরতের অন্থগামিগণ, আল্লাহ্‌ তল্লার নামে এখানে আসিয়া মিলিত হও

রাজেশখবর আজানের অর্থ জানে না কিন্ত বড় মিষ্টি লাগে, প্রভাতে পাখীর গুঞ্জনের মতই মপুর অথচ উদাত্ত গম্ভীর

প্রাতঃকৃত্য সারিয় হৃর্য প্রণামের জন্য সে যখন মাঠে আসিয়া ্ীড়াইল তখনও নুর্য ওঠে নাই। পুব আকাশ জুড়িয়া অরুণ বর্ণচ্ছটা তরুণ সন্ন্যাসীর ললাটের রক্ত তিলকের মতন জল জ্বল করে। রাজেশ্বর প্রায় এক মিনিট কাল মাথা নোয়াইয়া৷ নিখিল চরাচরের প্রাণশক্কির উদ্দেশে ভক্তি নিবেদন করিল, তারপর চলিল সত্যপীবের দরগ'র দিকে

মঞ্জরী দীঘিরপারের মাঝখানে ঝরঝরিয়ার ভিটায় পীরের পৈঠান। আশে পাশের হিন্দু মুসলমান এখানে শিল্পি দের তাদের বিশ্বাস পীরের দয়া হইলে সকল মনস্কামনাই পুর্ণ হয়। রাজেশ্বর দরগার সামনে যাহিয়া বলিল, পীর সাহেব, আমার বাসনা পুর্ণ কর।

সে বখন ত্রিগুণাদদের বাড়ী পৌছিল তখন ব্রিগুণার ভ্রাতৃবধূ. উঠানে গোবর জল ছিটাইতেছিলেন। রাজেশ্বরকে দেখিয়া ঘোমটা একটু টানিক়্া জল ছিটাইতে ছিটাইতে ঠাকুর ঘরের দিকে চলিয়া গেলেন।

২৪ শতাব্দী

ত্রিগুণার মা! জবাফুল তুলিয়া ঝাঁপি হাতে ঘরে ফিরিতেছেন। বৃদ্ধা বিধবার পরিধানে পট্টবাস, লম্বা দোহার! গড়ন, বয়সের ভারে শরীর এখনও নুইয়া পড়ে নাই। গায়ের রং কাঁলো হইলেও তার উন্নত নাসা, প্রশস্ত ললাট শ্রদ্ধার উদ্রেক করে তিনি বলিলেন, বাবা রাজু,

কেমন আছ? ভাল আছি ম1ঠাকরুন |

ত্রিগুণাত” এখনও ওঠেনি কাল আবার সার? রান্তির জেগে পড়েছে উঠতে দেরি হবে। ডেকে দেব?

না, আমি একটু বসছি।

বৃদ্ধা পুত্রবধূকে বলিলেন, তোমার দেওরকে বসবার আসন দাও

বাজেশ্বর বলিল, থাক্‌, বৌঠাকরুন | হাতের কাজ ফেলে আপনাকে আসন দিতে হবে না।

ত্রিগুণার মা বলিলেন, তা কি হয় বাঁবা, ওট] যে আরও জরুরী

খানিকটা পরে, “নমস্তে সতে তে জগৎ কারণায়”--সুর করিরা এই স্তোত্র আবৃত্তি করিতে করিতে দীর্ঘ খজুদেহ শ্যামবর্ণ একটি যুব রাজেশ্বরের সামনে আসিয়া বলিল, অনেকক্ষণ তোমায় বসতে হয়েছে রাজ্বু। উঠতে বড় দ্রেরি হয়ে গেল।

তাতে আর কি?

একটু বসো ভাই, ঘাট থেকে মুখ ধুয়ে আসি।

আমি পুকুর পাঁড়েই বসবখন। চল যাই তোমার সঙ্গে

ঠাকুর ঘরে নারার়ণশিলা, লক্ষ্মীর বিগ্রহ মনসার ঘট আছেন। ত্রিগুণ সেখানে প্রণাম করিল না। চণ্ডীমণ্ডপেও নয়। প্রণাম ষে করিবে না,-রাজেশ্বর তাহা জানিত, তবুও সে ক্ষুণ্ন হইল। কেহ বলে, ত্রিগুণ! থুষ্টান হইয়াছে, কেহ বলে ব্রাঙ্গ! খৃষ্টান ষে কাহাকে বলে বাজেশ্বর তাহা জানে, সে বোঝে ষে ত্রিগুণ ভাই তার খৃষ্টান

শতাব্দী ২৫

হয় নাই। ত্রাঙ্দগ পে দেখে নাই, শুনিয়াছে ব্রাঙ্গরা ঠাকুর দেবতা, বামূুন--গরু কিছুই মানে না, সকলের ছোঁয়া খাঁয়। জাতের বাছ ধিচার তাদের নাই, যাকে ইচ্ছ! বিবাহ করিতে পারে।

লোকে আর পাঁচ রকম নিন্দাও করে, বলে, ত্রিগুণা কোনও মাদ্রাজী মেয়ের প্রেমে পড়িয়াছে। দাঁচয় পড়িয়া তাকেই বিবাহ করিতে হইবে। রাজেশ্বরের দু বিশ্বাস, উহা মিথ্যা, তার জিগুণ ভাই ওরূপ নয়। তবে ঠাকুর দেবত! যে সে মানে না, ইহাত সবাই জানে

ত্রিগুণার বাবা মানিতেন, ঠাকুরদা” মানিতেন। রাজেশ্বরের বাবার ঠাকুর ঘ্েবতায় বিশ্বান ছিল, অগ্নি মণ্ডলেরও আছে। ত্রিগুণার দাদ! ঢাঁকার নবাব সেরেস্তায় কাজ করিয়া মাসে শত শত টাকা রোজগার করেন, পুজার সময় নৌকা বোঝাই করিয়া কত সামগ্রী আনেন। বলির পাঠাই অন্তত এক কুড়ি। তিনিও ঠাকুর দেবতা মানেন তার ছোট ভাই হইর়] ত্রিগুণা দাদার ধর্ম মানে না, ছেলে হইয়া মায়ের দেবতাকে অস্বীকার করে। রাজেশ্বরের মনে কেমন যেন খটকা থাকিয়া যায়

এই ছুজনের বন্ধুত্বের একটা ইতিহাস আছে। ত্রিগুণাঁর ফাঁড়া ছিল। জ্যোতিষী নিবারণ ভশ্চাধ্যি পাতি দিলেন, কোনও নমঃগুদ্রের পুত্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করিলে রি কাটিয়৷ যাইবে। রাজেশখর স্থদশন, কাছে তার বাড়ী, তাদেরই প্রজা, ত্রিগুণার সে সমবয়সী এই সব কারণে তাকেই মনোনীত করা হইল। ত্রিগুণার মা তিনরূপ- চণ্তীপাঠ করাইয়া, নারায়ণকে তুলসী দিন্না, ভোঞজনদক্ষিণায় ব্রাঙ্গণকে পরিতুষ্ট করিয়া রাজেশ্বরকে পুত্রের বন্ধুত্বে অভিষিক্ত করেন। আজ? সে বছরে দুবার কাপড় পায়। গত বৎসর হইতে রাজেশ্বরও বন্ধু বন্ধুর মাকে কাপড় দ্েয়। বাড়ীতে খেতে যা” কিছু ফসল হুয় প্রথমেই এই বাড়ীতে লইয়া আসে। বাড়ীর প্রথম কুমড়াটি, চালার

২৬ শতাব্দী

প্রথম লাউ, গাছের বেগুন, লঙ্কা, পেপে, কাকুড় হাতে করিয়া ছুটিয়া আসে। ত্রিগুণার মাকে বলে, আপনি প্রসাদ করে দিলে পরে খাব

এই অর্থ দানে সে কী তার তৃপ্তি! মা নাই, ভাই নাই, তাহ সে প্রায় ভুলিয়াই গিয়াছে

ত্রিগুণা পুকুরের ঘাট হইতে মুখ ধূইয়া উঠিলে রাজেশ্বর কহিল, কাল শেষে মণ্ডল মশাইকে বলেছি।

কি বলেছ, টাপার কথা ?

হ্যা।

পারলে নিজে বলতে? বাহাদুর বলতে হবে তো (তোমায়, কি ঘললেন তিনি?

রাজী হয়েছেন, কিন্ত টাকা চেয়েছেন দেড়শ

দেড়শ! তোমাদের সমাজে মেয়ের পণ তো বাহার টাকা

রাজেশ্বর বলিল, কিন্তু চাপা তো আর বাছান্ন টাকার মেয়ে নয়, ভাই। দেখেছই ত*।

ত্রিগুণা হাসিয়া কহিল, কিন্ত মণ্ডল মশাইর অবস্থা ভাল। টাকাটা ত+ ছেড়ে দ্রিলেও পারতেন

রাজেশ্বর কহিল, বড় মানুষের খেয়ালও বড়।

ত্রিগুণ। কহিল, যাঁক্‌, এই ভাল খবর দেওয়ার জন্য তোমাকে সিকির বাজারে নিয়ে গিয়ে অনেশি খাইয়ে আনব চল, আগে মাকে খবরট। দিয়ে আদি।

গোপনে দ্বিতে হবে, আর কেউ টের না পায়। মণ্ডল মশাই আমাকে তার বাড়ী যেতেও নিষেধ করেছেন, আর সময় দিয়েছেন এক বছর।

অত দেরিতে কাজ কি? টাঁকাটা মার কাছ থেকে নিয়ে আযাট়েই বিয়ে করে ফেল না।

শতাববী ২৭

তা নয়, নিজে রোজগার করে তাকে দিতে হযে--মগুল মশাই তাই চান।

এই সময় ভ্রিগুণার ভ্রাতুন্পুত্র অকণ আসিয়া কহিল, ছোট কাকা ঠাকুরমা তোমাকে আর রাজু কাকাকে জল খাবার খেতে ডাঁকছেন।

ত্রিগুণার মা! তাদের মুড়ি, ছুধ, গুড় আম দিলেন রাজেশ্বর বন্ধুর সঙ্গে বৈঠকখানায়ই থাইতে বসিয়া গেল

আগে আগে হ্ুখদাসুন্দরী আপত্তি করিতেন। ব্রিগুণা হাসিয়া বলিত, মা, রাজু তোমার আমার চেয়ে ফরসা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ওর সঙ্গে এক ঘরে বসে খাওয়ায় আর দোষ কি?

বৃদ্ধা বলেন, রাজু তো আমার ছেলেরই মতন, তবে কিনা-_

ত্রিগুণা বলে, হিন্দুর সবই ওঁ “তবে কিনার” পাল্লায় প'ড়ে মাটি হয়ে যায়, মা।

স্থখদা সুন্দরীর এই আপত্তিও ক্রমে ক্ষীণ হইয়া আসিতেছিল। আসল কথা, ছেলের মতি গতি দেখিয়া তিনি এখন হাল ছাড়িয় দিয়াছেন। ভাবেন, ছেলে যার সঙ্গে ইচ্ছা একত্রে খাওয়া দাওয়া করুক, বিশ্বাস না হইলে ঠাকুর দেবতাকেও না মান্গুক, কিছুতেই তার আপত্তি নাই, ষদ্দি সে শুধু একটা বিবাহে সন্মতি দেয়। তার ধারণা একটা সুন্দরী বধূ আনিতে পারিলে, ত্রিগুণের এই সব খোস খেয়াল দুদিনেই বাষ্পে পরিণত হইবে। বধূলক্মীর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে বহিমু'খী সকল অলঙ্মী বুদ্ধিও লোপ পাইবে

কিন্তু মায়ের ব্যবস্থান্যায়ী এই মহোৌধধি সেবনে ত্রিগুণা কিছুতেই সম্মত নয়। সুখদাহ্থন্দরীর সব চেয়ে বেণী বেদনা এইথানে। কোলের এই ছেলেটিকে লইয়া তিনি বিধবা হন। কত কষ্টই না তখন গিয়াছে। আজ সংসারের সুদিন, বড় ছেলে ইন্দুপ্রকাশ মুঠা মুঠা টাকা আনে। পুজার সময়ে ঝাঁড়ে লনে, গদি গালিচায়, অর্চনা সন্তারে পুজামণ্ডপ

২৮ শতাব্দী

নাটমন্দির ছাইয়া ফেলে। পরগণার শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতরা' বিদায় লইতে আসেন। লোকে বলে, ইন্দুর মা যেন বত্বগর্ভা।

রত্রগর্ভাই বটে, মেজটিও চাকরি করে। ত্রিগুণাঁও ছুইটা পাশ দিয়াছে, এবার আর একটা দিলেই বি, এ, হইবে, তারপর উকিল. ইচ্ছা! হইলে তথন হাকিমও হইতে পারে

কোথায় বৃদ্ধার এই সুখ আজ যোল কলায় পূর্ণ হইবে, ছোট বো৷ আসিবে, একটি লাল টুকটুকে বৌ। আর আক্ত কিনা ত্রিগুণা শুধু এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে না, পিতৃ-পিতামহের ধর্ম পর্বস্ত ত্যাগ করিতে চায়। মাতার দেবতাকে উপেক্ষা করে, স্বর্গত পিতার উদ্দেশে এক ফৌঁট! জল, তর্পণের এক মুঠা তিল পর্যস্ত দিতে চায় না।

পণের টাক। সংগ্রহের উপায় সম্বন্ধে রাজেশখবর বন্ধুর নিকট চালানী কারবারের কথা বিস্তৃতভাবে খুলিয়া! বলিল

ত্রিগুণ! কহিল, মাকে টাকার কথাটা বলি তা হ'লে?

রাজেশ্বর বলিল, আমার একট কথা৷ তোমায় রাখতে হবে। টাকার বদল আমার জমি বাড়ী বন্ধক পিখে দেব। রাগ করবে না তো?

তুমি আমাদের এত ছোট মনে কর, তা” জানতুম না

তা নয় ভাই, জানি অনেক কিছু তোমরা! আমায় দিতে পার, দিয়েছও (ঢটের। কিন্তু আমারও তে একটা ভবিষ্যং আছে। টাকা শোধ করার আগে আমি যদি মারা যাই, আমার কি উপায় হবে তখন?

ত্রিগুণ। তার মুখের দিকে চাহিয়া রহিল।

রাজেশখ্বর বলিল, আমি বলছি পরলোকের কথা দেনা রেখে মরে গেলে একেবারে রৈরব নরক

নরক আমি বিশ্বাস করি না।

আমি কিন্তু করি। আমাদের গুরু ভগবান ঠাকুর মশায় সেদিন বলেছেন, এক পুণ্যবস্ত মানুষ, অনেক পুণ্য সে করেছিল, বাড়ীতে অতিথি

শতাব্দী ২৯

সেবা, বামুনকে শোন! দান, ভিক্ষুককে পেট ভরে খাওয়ান, কোন বিষয়েই তার অপ্রতুল ছিল না। কিন্তু মৃত্যুর পর বৈকুণ্ঠের দ্বারী তাঁকে সেখানে: ঢুকতে দিল না।

ত্রিগুণা বলিল, কেন ?

রাজেশ্বর বলিল, শুধু এক তীঁড় গুড়ের জন্য গ্রামের এক মুদি তার কাছে নাকি এক ভীড় গুড়ের দাম পেত।

ত্রিগ্তণা বলিল, এত যখন তোমার ভয় তখন দিও একথান! খত লিখে

তোমার তা হ'লে কারবারে মত আছে?

কারবার আমি বুঝিনা, আমি দাদার ভাই। সংসারী বুদ্ধি শুদ্ধি আমার নেই।

তা বললে শুনব কেন, তুমি দুটো পাশ দ্িয়েছ।

পাশ করা সোজা, সংসার করা তার চাইতে ঢের শক্ত। তা যাক্‌ তুমি যাতে হাত দেবে তাতেই সোনা ফলবে।

তুমি ভালবাস কিনা তাই বলছ।

শুধু তা নয়, তুমি নিজেকে ফাকি দাও না। ছুনিয়াও তোমায় ফাকি দেবে না।

বন্ধুর প্রশংসায় রাজেশ্বরের মুখ উজ্জল হইয়া উঠিল বটে, কিন্ত সে বলিল, বরাতও তে! একটা আছে।

ত্রিগুণ! বলিল, বরাত আমি মানি না।

মানবে না কেন? আমার বাব আলোক মল্লিক, এমন কি পাপ করেছিল, যাতে বিলের মধ্যে তাকে অমন ভাবে মরতে হ'ল? ওষুধ না, রোজা না, পথ্য না, এক ফৌট। জল দেওয়ার একট] মানুষ পর্ধস্ত ছিল না। সাপের বিষ ক্রমে ক্রমে সব শরীরে ছড়িয়ে পড়ে একেবারে নীল হয়ে গিয়েছিল।

তা বটে, একটা ছুদৈ্ব।

৩০ শতাব্দী

দৈবটাই সব। নিজেদের হাতে ত” আমাদের কিছু নাই। বাপ রকমে গেলেন। মা ছিলেন কেমন পুণ্যাত্থা তাঁত' জান। তিনি মরলেন ন1 খেয়ে কাটা নটে, কচুর শাক, খেয়ে মানুষ কদিন থাকতে পারে? বলিতে বলিতে রাজেশ্বরের চোখের পাতা! জলে ভিজিয়া গেল

ত্রিগুণ! ধীরে ধীরে বলিল, মল্লিক খুড়ী বড় কষ্ট পেয়ে মার! গেছেন।

আজ রাজেশখ্বরের রওনা হইবার দিন। ঘাঁটে দোঁ-মাল্লাই একথানা নৌকা বাধা ছুইজন মাঝিতে যে ধরনের নৌকা বায় তার তুলনাক়্ - এইথানা বেশ বড় এবং নূতন। শেখ আলেপের নিকট হইতে রোজ চার আন। হিসাবে ভাড়া নেওয়া হইয়াছে রাজেশ্বররা' যাইবে ছুইজন, সে আর বুন্দাবন। বেঁটে খাটে! এই বুন্দাবন লোকটি বেশ বলবান এবং অত্যন্ত সতগ্রক্কৃতি। লগি চেলিতে এবং দাড় টানিতে মগ্তরীতে অদ্বিতীয় তবে হালে সে যাইতে চার না। বলে, আমি হাইল ধরলে নাও যেন কেমন ঘু'রিয়া যায়

বৃন্দাবন মাসে এক টাক! মাহিনায় দাশের বাড়ীর ভুবন বাবুর কাজ করিত। রাজেশ্বর যশোহবে যাওয়ার প্রস্তাব করিলে সে একটু হাদিয়া কহিল, আমি কব কি করিয়া, কইতে পারে বউ। যাও তারডে।

বধুটি পাকা গৃহস্থ, বারখী বাধিয়া অর্থাৎ পরের বাড়ী ধান ভানিয়া সংসার চালায়, সঙ্গে সঙ্গে দেবর ছুটিকেও পাঠশালায় পড়ায় সেদর কষাকষি করিয়া! স্বামীর মাহিনা ঠিক করিল চার টাকা শুনিয়া বৃন্দাবন চোখ কপালে তুলিয়া বলিল, করছ কি বড় বউ, একেবারে চারড! টাকশাল! সে আবার কত পয়সা ?

বধু ধমক দিল, যাঁও, কাজে যাঁও।

শতাব্দী ৩১

আরে কাজে তো বাবই।-যাহাকে দেখে তাহাকেই বুন্দাবন জিজ্ঞাস! করে, চারটা টাকশালে পয়সা কতড়ি ?

ছইশ, তিনশ, যার যেরূপ খুশি বলে

বৃন্দাবন ছুই হাত ফাক করিয়া জিজ্ঞানা করে, এই এত? ওবে আমার কপাল রে। তা হৈলে মেলা কেল! পাওয়া যায়, পাকা পাকা রম্ত।

কতকগুলি বাশের চোঙায় নারিকেলের মালায় হলুদের গুড়া সরিষার তৈল, তামাক, লঙ্কা প্ররৃতি সংসার করিবার তৈজসপত্র লইয়। রাঁজেশ্বররা নৌকায় উঠিল নৌকা ছাড়িবার আগে সে ত্রিগুণাকে বলিল, চললাম তোমার টাঁক! নিয়ে, দেখো যেন সুরাহা হয়।

ক্িগুণা কহিল, হবে নিশ্চয়ই

বৃন্দাবনের প্রতিবেশী জুড়ন জলে দাঁড়াইয়া হিঞ্চে তুলিতেছিল, বৃন্দাবন তাঁকে ডাকিয়া বলিল, আমার মাথারিরে কইও, আমি চললাম। কয়ডা পাকা কেলা রাখছিলাম তার জন্য, আর দেওয়। হইল না।

ছোট্ট ভাঙা হইতে নৌকা মঞ্জরীর খালে আসিয়া পড়ার আগে সে এক দৃষ্টে তার বাড়ীর দিকে চাহিয়া! রহিল। থালে আপিলে বলিল, ভাই বাজু, তুমি একটু নৌক! বাও। আমি ঘরখানা দেখি, ঘরের পাছে বসিয়া মাথারি উ্তরের বাড়ীর মোক্তার বাবুর ধান সেদ্ধ করতেছে।

গ্রাম ছাড়িয়া যাইতে বাজেশ্ববেরও কষ্ট হইতেছিল।

মঞ্ররীর বাড়ীগুলি দীরে ধীরে দুরে সরিয়া যায়, গাছগুলি সব মিলিয়! মিশিয়া একাকার হয়। গ্োপালপুরের নীচে গাঙের উপরহইতে দেখা যায় শুধু মধু বাড়ীর পাকুড় গাছ, আর কবিরাজ বাড়ীর টিনের চাগা।

৩২ শতাব্দী

তারপর হুজনেই অনেকক্ষণ কোন কথা কহিল না। রাজের ছিল হালে, বৃন্দাবন দাড় টানিতেছিল। গাঙের সেই পরিচিত পথ। মাঝে মাঝে দুধারেই ছোট ছোট খাল বাহির হইয়া বিভিন্ন গ্রামের দ্বিকে গিয়াছে গাঙপারে কোথাও একটা গাছ একাকী দাঁড়াইয়া, কোথাও ব। তিন চারিট? একত্রে

নদীর উপর হইতেই কৃষকের ধানের মড়াই গোঁশালা দেখা যায়। কারও বাড়ী দেখিলে দুঃখ করে, আবার কোন কোন বাড়ীর লক্ষী শ্রী দেখিয়া চোখ জুড়ায়। ঘরগুলি সুন্দর, গরুগুপি পুষ্ট, শিশুদের কোমরে রূপার গোট

কোথায়ও বধূর! ন্নান করে, সাতার কাটিবার সময় কিশোর কিশোরী- দের কলগুপ্রনে আকাশ মুখরিত হয়। কোন বধু খালৈ করিরা মাছ ধুইতে ধুইতে মাথা তুলিয়া হালে টাড়ানে রাজেশ্বরের দিকে একটুক্ষণ চাহিয়া থাকে। তারপরই লজ্জায় জিভ কাটিয়৷ ঘোমটা টানিয়া দেয়। স্বল্প পরিসর কাঁপড়ে চোখের লজ্জা ঢাকিতে গিয়া দেহের অন্ত অংশকে অনাবৃত করিয়! ফেলে

বৃন্দাবন বগল, এবার একটু তামাক খাইয়া লই তামাক খাইতে রাজেশ্বরেরও ইচ্ছা! হইয়াছিল।